সারাদিন সতেজ থাকার সহজ উপায়

সারাদিন কাজের ব্যস্ততা ঘুমের পর্যাপ্ত অভাব অনিয়মিত খাবার অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার এবং শারীরিক পরিশ্রমের কারণে অনেকেরই দিনের মাঝামাঝি সময়ে ক্লান্তি চলে আসে।  সকালে যখন ঘুম থেকে উঠেন কিছুটা সতেজ লাগলেও কয়েক ঘণ্টা পর শরীর ও মন যেন ভারী হয়ে যায়। আর এই কারণে কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যাওয়া অলসতা বেড়ে যাওয়াসহ দিনের স্বাভাবিক কাজগুলো কঠিন মনে হতে পারে।

তবে কিছু সহজ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে সারাদিন তুলনামূলকভাবে সতেজ ও মনোযোগে থাকা সম্ভব।  এজন্য সব সময় বিশেষ কোনো পণ্য বা কঠিন রুটিন এর প্রয়োজন হয় না।  পর্যাপ্ত পরিমাণ গুম সঠিক কভার নিয়মিত পানি পান করা শরীরচর্চা এবং বিশ্রামের মতো সাধারণ অব্যশই বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে আপনার জীবনে।

সারাদিন সতেজ থাকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

সতেজ থাকা শুধু শরীরের জন্য নয় মন মানসিকতা সুস্থতা এবং প্রতিদিনের কর্মক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  আপনি যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিয়ে সতেজ থাকবেন তখন কাজের প্রতি মনোযোগ অবশ্যই ধরে রাখতে পারবেন অফিসের কাজ কিংবা পারিবারিক এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অথবা ঘুমের অনিয়ম ওর জীবন যাপন থাকলে দৈনন্দিন কাজের গতি কমে যাবে শুরু থেকেই শরীর এবং মনের যত্ন নেওয়া আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

১ পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম নিশ্চিত করুন

সারাদিন সতেজ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হল ভালো একটি গুণ রাতে জেগে মোবাইল ব্যবহার করা নিয়মিত সময়ে ঘুমানো হওয়ার কারণে সকাল থেকে তারপর শরীর ক্লান্ত লাগতে পারে মোটামুটি একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করতে হবে

ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল অথবা কম্পিউটার বা টেলিভিশন ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে শুধু বিছানায় থাকা নয় ঘুমের মান গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ আরামদায়ক ও যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখতে হবে।

২ ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন

রাতের দীর্ঘ সময় ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে যখন সকালে ঘুম থেকে উঠবেন তখন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি  পান করার অভ্যাস করতে হবে।

সাধারণ পানি দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করতে দিনের বিভিন্ন সময়েও বিরক্ত পরিমান পানি পান করবেন।

৩ পুষ্টিকর নাস্তা করুন

অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সকালের নাস্তা বাদ দিয়ে দেন এতে কিছু মানুষের দিনের শুরুতেই দুর্বল লাগা অথবা ক্ষুধার্ত লাগতে পারে।

সকালের খাবারে শর্করা প্রোটিন শাকসবজি অথবা ফলের মত বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখতে পারেন।

আপনি ডিম আটার রুটি ওটস দই অথবা অন্যান্য ফল ব্যক্তিগত পছন্দ ও খাদ্য অভ্যাস অনুযায়ী পারেন সকালের পুষ্টিকর নাস্তা

৪ সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন

শরীরে পানির ঘাটতি হলে কিছু কিছু মানুষের মাথা ব্যাথা বলতা এবং ক্লান্তির মত সমস্যা অনুভব হতে পারে কৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে।  আপনার শারীরিক পরিশ্রম আবহাওয়া এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম অনুযায়ী পানির চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে।

৫ দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকবেন না

অফিসের কাজ পড়াশুনা অথবা কম্পিউটারের কাজ করার সময় অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা তাই বসে থাকেন।

কাজের মাঝখানে ছোট বিরুতে নিতে পারেন কিছু সময় দাঁড়িয়ে অথবা হাঁটতে পারেন নাড়াচাড়া করতে পারেন।  এই ছোট বিরতি গুলো কাজের সময় শরীর ও মনকে কোথায় আছো রাতে আপনাকে সাহায্য করবে।

৬ নিয়মিত হাঁটুন

সতেজ থাকার জন্য নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অত্যন্ত উপকারী এজন্য জিমে যাওয়া জরুরি হয় না।  প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটাচলা সিড়ি ব্যাবহার করা  অথবা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।

যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন বিভিন্ন সময়ে করে হাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।  তাহলে আপনার শরীর অবশ্যই সতেজ থাকবে।

৭ অতিরিক্ত বাড়ি খাবার এড়িয়ে চলুন

দুপুরে খুব বেশি খাবার খাওয়ার পর অনেকের ঘুম অথবা অলস লাগতে পারে এক্কেবারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পরিবর্তে পরিণত পরিমাণে সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

খাবারে শাকসবজি পূর্ণ শস্য ফল ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রাখার চেষ্টা করবেন অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে।

৮ খাদ্য তালিকায় ফল ও সবজি রাখুন

ফল এবং সবজিতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে সুষম খাদ্য তালিকা নিয়মিত ধরনের ফল ও সবজি খেতে পারেন।

একই ফল প্রতিদিন নাকি মৌসুমী ও বিভিন্ন রঙের ফল শাকসবজি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখলে খাবারে বৈচিত্র আসে।  তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল রাখার চেষ্টা করুন।  এতে করে আপনার শরীর সতেজ থাকবে।

৯ অতিরিক্ত কফি অথবা চা এর উপর নির্ভর করবেন না

আমাদের একটি অভ্যাস হলো কাজের সময় ক্লান্ত লাগলে অনেকেই বারবার চা অথবা কফি পান করেন। টিফিন সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়াতে পারে কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ঘুমের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে সন্ধ্যায় অথবা রাতে অতিরিক্ত কেফিন গ্রহণ করলে ঘুমের সময় এবং ঘুমের মানে সমস্যা হতে পারে তাই নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমাণ মতো খেতে হবে।

১০ সকালে সূর্যের আলোতে  কিছু সময় থাকুন

সকালে প্রাকৃতিক আলো শরীরের দৈনিক ঘুম জাগরণ চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সময় বাইরে অথবা প্রাকৃতিক আলো যুক্ত স্থানে থাকা ভালো অভ্যাস হতে পারে।

সকালে ঘুম থেকে উঠার পর হালকা হাঁটার সঙ্গে প্রাকৃতিক আলু পাওয়ার অভ্যাস যুক্ত করতে পারেন চন্দ্র পরিমান রোধে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে আবহাওয়া এবং ব্যাক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় দিন।

১১ মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনুন

সারাদিন মোবাইলের স্কিনে চোখ রাখলে মানসিকভাবে ক্লান্ত হতে পারেন বিশেষ করে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে আপনার ঘুমের রুটিন নষ্ট হয়ে যাবে।

আপনার কাজের প্রয়োজন ছাড়া বারবার মোবাইল চেক করার অভ্যাস কমানোর চেষ্টা করতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে হবে।

১২ কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নিন

একটানা কয়েক ঘন্টা কাজ করার চেষ্টা করলে আপনার মনোযোগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাই কাজের ধরন অনুযায়ী বিরতি নেওয়া উপকারী হতে পারে।

তবে যখন বিরতি নিবেন এই বিরতির সময় ফোনে সোশ্যাল মিডিয়া দেখার পরিবর্তে একটু হাটাহাটি অথবা পানি পান করা চোখ কে বিশ্রাম দেওয়া অথবা কয়েক মিনিট শান্তভাবে বসে থাকা একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে।

১৩ মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন

শুধুমাত্র শারীরিক ক্লান্তি সারাদিনের সতেজ হতা নষ্ট করে না বরং মানসিক চাপও বড় ভূমিকা রাখে আপনার সারাদিন সতেজ রাখার উপর।  অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থাকলে কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং সব সময় ক্লান্ত লাগতে পারে।

প্রতিদিন নিজের জন্য অল্প কিছু সময় রাখুন যেমন বই পড়বেন হাটাহাটি করবেন কথা বলবেন পছন্দের কাজ করা এবং কিছুক্ষণ নীরবে বিশ্রাম নেওয়া মানসিকভাবে ভালো লাগবে অনেকটাই সাহায্য করে।

১৪ সারা দিনের কাজের তালিকা তৈরি করুন

অনেক কাজ একসাথে মাথায় রাখলে মানসিকভাবে চাপ বাড়তে পারে শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি ছোট তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন একসঙ্গে শেষ করার চেষ্টা না করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করুন এতে কাজের চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হবে।

১৫ অতিরিক্ত রাত জাগার অভ্যাস বাদ দিন

রাত জেগে কাজ করা অথবা যেকোনো বিনোদন নেওয়ার কারণে ঘুমের সময় যদি কমে যায় পরদিন ক্লান্ত অনুভব হবে এটাই স্বাভাবিক।

তবে আপনি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন ঘুমের সময়সূচী খুব বেশি পরিবর্তন না করায় আপনার জন্য ভালো।

১৬ পরিষ্কার ও আরামদায়ক পরিবেশে থাকুন

অগোছালো কর্মস্থল অথবা ঘর অনেক সময় মানসিক অসুস্থ তৈরি করে কাজের টেবিল কিংবা বিছানা অথবা আশেপাশের জায়গা এবং গুছালো রাখার চেষ্টা করুন।

প্রাকৃতিক আলো ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন পরিবেশে কাজ করলে অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে।  তাই নিজেকে সতেজ রাখতে অবশ্যই পরিষ্কার এবং আরামদায়ক পরিবেশে থাকতে হবে।

উপসংহার

সারাদিন সতেজ থাকার জন্য কোন জাদুকরি উপায় নেই,  আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস একসঙ্গে অনেক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।  পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া শারীরিক ব্যায়াম করা এবং ছোট বিরতি এবং মানসিক বিশ্রাম এই বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দিলে প্রতিদিনের জীবন আরও সক্রিয় এবং গুছানো হতে পারে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top