চুলপড়া কমানোর কার্যকর উপায়

চুল শুধু আমাদের একটি অংশ না এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে পুরুষ এবং নারী নির্বিশেষে অনেকেই অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যায় ভুগতেছেন।  সকালে ঘুম থেকে উঠার পর বালিশে চুল, গোসলের সময় হাতে চুল,  কিংবা  চিরুনি ব্যবহারের পর এসব দৃশ্য অনেকের কাছে খুবই পরিচিত।

যখন শুলপাড়া শুরু হয় অনেকেই বিভিন্ন ধরনের তেল শ্যাম্পু অথবা গরুয়া উপায় ব্যবহার করতে শুরু করে দেন।  কিন্তু সব সময় এগুলো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে পারে না।  কারণ চুল পড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে আপনি সঠিক কারণ নির্ধারণ না করতে পারবেন সময় পণ্য পরিবর্তন করলেও অনেক সময় সমস্যার সমাধান হয় না।

আজকের এই গাইডে আমি আপনাদেরকে চুল পড়ার সম্ভাব্য কারণ প্রতিরোধ করবেন স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস এবং দৈনন্দিন যত্ন সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রতিদিন কতটুকু চুল পড়া স্বাভাবিক?

আমরা অনেকেই মনে করি প্রতিদিন কয়েকটি চুল পড়া মানে বড় কোন সমস্যা আসলে বাস্তবে তা নয়।  প্রতিটি চুলের একটি স্বাভাবিক জীবনচক্র থাকে।  পুরনো চুল ঝরে গিয়ে এবং একই ফুলে কল থেকে নতুন চুল তৈরি হয়।  তাই প্রতিদিন কিছু চুল পড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে আগের তুলনায় অনেক বেশি চুল পড়তে থাকে এবং চুল পাতলা হয়ে যায় করে চুল গজাতে না দেখা যায় তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে  দেখা উচিত।

কেন চুল পড়ে?

প্রিয় পাঠক শুল পড়ার অনেক কারণ থাকতে পারে অনেক সময় একটি নয় বরং কয়েকটি কারণ এক সঙ্গে কাজ করে চুল পড়ার জন্য।

আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করবো যেগুলোর কারণে আপনার চুল পড়তে পারে।

১ পুষ্টির ঘাটতি

চুল সুস্থ রাখতে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টির প্রয়োজন হয়।  বিশেষ করে জিংক, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, প্রোটিন  এবং বায়োডিনের ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ঝরে যায়।

২ মানসিক চাপ

যদি আপনার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা উদ্যোগ কাজের চাপ অথবা পারিবারিক সমস্যার কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্র পারে এবং অতিরিক্ত চুল পরা শুরু হতে পারে।

৩ পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের অভাব

অনেক সময় আমরা অনেক রাত পর্যন্ত না ঘুমিয়ে থাকি এই রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ না ঘুমানোর কারণে আমাদের শরীরের কোষ পূর্ণ গঠন সঠিকভাবে করতে পারেনা বাপ চুলের গোড়া তো উপরে যার কারণে আমাদের চুল পড়ে যায়।

৪ হরমোন পরিবর্তন

অনেকেই গর্ব অবস্থায় সন্তান জন্মের পর অথবা পস্তায় থাকলে হরমোনের পরিবর্তনের গড়তে পারে আর যার প্রভাবে আপনার চুল পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৫ বংশগত কারণ

আমাদের অনেকেরই বংশগত কারণ রয়েছে পরিবারে টাক পড়ার ইতিহাস থেকে তাকে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার চুল পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে এবং চুল পড়তে শুরু করবে।

চুলপড়া কমানোর কয়েকটি কার্যকর উপায়

১ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে

যদি আমাদের চুলপড়া কমানোর  চেষ্টা করি তাহলে আমাদেরকে প্রতিদিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেগুলো খেতে পারেন

  • ছোলা
  • দুধ
  • ডাল
  • দই
  • মুরগির গোস্ত
  • ডিম
  • মাছ

২ পানি পান করুন

আমাদের শরীরকে হাইডেড রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  মা তার ত্বকের সূক্ষ্মতা কমাতে পানি সাহায্য করে।  প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করবেন।  এতে করে আপনার শরীরের বিভিন্ন উপকারের পাশাপাশি মাথার চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৩ তেল মালিশ করুন

আমাদের অনেকেরই তেল মালিশ করার অভ্যাস রয়েছে আপনার কমানোর কার্যকরী উপায় হিসেবে তেল ব্যবহার করতে চান তাহলে অবশ্যই হালকা গরম নারকেল তেল অথবা বাদামের তেল দিয়ে কে মাথার তোকে আলতোভাবে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

৪ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

বাজারে অনেক ধরনের সেম্পু কিনতে পাওয়া যায়।  যদি আমরা ভালো সেম্পু ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের চুল পড়া বন্ধ হবে।  অতিরিক্ত কেমিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়।  তাই মৃদু বা সালফেট মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো।

৫ ভেজা চুলে মাথা আছড়ানো

যখন তোর বেঁচে থাকবে তখন চুল অনেক নরম এবং দুর্বল থাকে।  আপনার মাথার চুল ভেজা অবস্থায় চিরুনি ব্যবহার করবেন না।  চুল শুকানোর পর বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করবেন।

৬ গরম পানি ব্যবহারে সাবধান হোন

বেশি গরম পানি মাথার ত্বকের আদ্রতা কমিয়ে দিতে পারে।  কুসুম গরম অতবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে।

৭   হেয়ার ড্রায়ার কম ব্যবহার করুন

যদি আপনি প্রতিদিন হেয়ার ড্রায়ার অথবা স্টেটমের ব্যবহার করেন তাহলে আপনার চুল ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।  তাই হেয়ার ড্রায়ার কম ব্যবহার করার অভ্যাস করুন

৮  ব্যায়াম করুন

বিয়াম আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী যদি আপনি প্রতিদিন ২০ মিনিট হাটা অথবা হালকা করেন তাহলে আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করবে এবং চুলের ফলিকলে অক্সিজেন পৌঁছাতে  সাহায্য করবে।

৯ পর্যাপ্ত ঘুম

ঘুম আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।  যদি আপনি পরিমাণ মতো ঘুমান তাহলে আপনি অনেক সমস্যা থেকে বেঁচে যাবেন।  প্রতিদিন আট ঘন্টা ঘুম আপনার শরীর এবং চুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১০ ধূমপান থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান আমাদের শরীরের জন্য খুবই খারাপ।  যদি আপনি ধূমপান করেন তাহলে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন কমে যাবে।  এবং আপনার চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

১১ পরিষ্কার চিরুনি ব্যবহার করুন

অনেকেই দীর্ঘসময় চিরুনি ব্যবহার করে পরিবর্তন করেন না। অনেকদিন চিরনি ব্যবহার করার ফলে অনেক মহিলা জমে থাকে।  এতে করে ব্যাকটেরিয়া এবং মহিলা জমে আপনার মাথার ত্বকের সমস্যা হতে পারে।

১২  চুল শক্ত করে আসবেন না

আমরা অনেকেই রয়েছি অনেকক্ষণ শক্ত করে কোপা করে রাখি।  যার কারণে আমাদের চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়ে। তাই আপনার চুল ভালো রাখতে চুল শক্ত করে বাঁধবেন না।

১৩ নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন

আপনার মাথায় খুশকি এবং অতিরিক্ত তেল জমে থাকে তাহলে আপনার চুলের গুড়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে।  তাই আপনার মাথার ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

১৪ নিজে থেকে কোন ওষুধ ব্যবহার করবেন না

আমরা অনেকেই রয়েছি বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের চুল গজানোর দাবি করা পণ্য নিয়ে আসি। এগুলা কখনোই করা যাবে না প্রয়োজনে আপনি একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ ব্যবহার করবেন।

চুলের জন্য উপকারী কিছু খাবার

আমরা চাইলে খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করে চুলের জন্য একটি প্রাকৃতিক ওসব তৈরি করতে পারি ।  তাই আজই আপনার চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে তার অভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে।

খাবারের তালিকায় যা রাখতে পারেন

ফুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্য অভ্যাসের দিকে আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।  খাদ্য বয়স পরিবর্তন করলে আমাদের চুল অনেকটাই ভালোভাবে রাখবে।

খাবার তালিকায় যা রাখতে পারেন

  • ডিম
  • সামুদ্রিক মাছ
  • গাজর
  • আমলকি
  • কোমড়ার বীজ
  • দই
  • ডাল
  • দুধ
  • ফলমুল
  • বাদাম
  • আমলকি
  • আখরোট
  • কমলা
  • তিল
  • টমেটো

যে অভ্যাস আপনার চুলের ক্ষতি করে।

  • ভেজা চুলে ঘুমানো।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
  • ধূমপান।
  • সারাদিন রোদে মাথা খোলা রাখা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না খাওয়া।
  • অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া।
  • অপরিষ্কার বালিশ ব্যবহার করা।
  • বেশি পরিমাণে হেয়ার ড্রায়ার করা।
  • অতিরিক্ত জেল ব্যবহার করলে।
  • যদি প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করেন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি আপনার নিজের লক্ষণ গুলো দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই একজন ত্বক ও চুল বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিবেন।

  • চুল পড়ার সাথে অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগা ওজন কমে যাওয়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে।
  • তিন থেকে ছয় মাস যত্ন নেওয়ার পরও যদি উন্নত না হয়।
  • মাথার তোকে অথবা তীব্র ব্যাথা বা চুলকানি হলে।
  • মাথায় টাকের মতো অংশ যদি দেখা দেয়।
  • প্রতিদিন অনেক বেশি চুল পড়লে।

সুস্থ চুলের জন্য দৈনিক রুটিন করুন

  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ গুম নিশ্চিত করুন।
  • প্রতিনিয়ত মাথায় তেল মালিশ করার অভ্যাস করুন।
  • সপ্তাহে দুইদিন মাথা পরিষ্কার করুন।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।
  • সকালে পুষ্টিকর নাস্তা করুন।
  • প্রতিদিন কিছু সময় নিয়ে হাঁটুন এবং ব্যায়াম করুন।

উপসংহার

চুল পড়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটাকে অবহেলা করা যাবে না।  পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম খাদ্য অভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ প্রতিনিয়ত মাতার ত্বকের যত্ন এবং সঠিক জীবন যাপন আপনার চুলকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়তে থাকে  এবং  মাথায় টাকের মতো অংশ তৈরি হতে থাকে তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।  ছুটির কারণ নির্ণয় করে যথাযথ যত্ন নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুরু করা নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top